১৭ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

শিরোনাম
শীতের আগেই কাঞ্চনজঙ্ঘার উঁকি, মুগ্ধতার টানে পঞ্চগড়ে ছুটছেন পর্যটকরা গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট নিরসনে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে: অর্থমন্ত্রী অব্যবহৃত জলাশয় তরুণদের মধ্যে বণ্টন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে: প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ও কর্নেল অলির মনোনয়নপত্র বৈধ উপকূলে ভারী বৃষ্টির আভাস, তিন নম্বর সতর্কসংকেত হরমুজে চলাচলের নতুন রুট নিয়ে ইরান-ওমান সমঝোতা আজ কিশোরগঞ্জ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী অভিনেত্রী রিধিকা রিধির মরদেহ উদ্ধার, ফেসবুকে আবেগঘন পোস্ট সাদ্দাম মালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বায়তুল মোকাররমে বিশেষ দোয়া

সন্তান কথা শোনে না, জেনে নিন ৬ সহজ কৌশল

আপডেট: জুন ১, ২০২৬

‘কতবার বললাম! শুনলে না কেন?’

বাড়িতে শিশু থাকলে এমন কথা প্রায়ই বলতে হয়। খেলায় মগ্ন, কার্টুনে ডুবে থাকা বা কল্পনার জগতে থাকা শিশুরা অনেক সময় বাবা-মায়ের কথা শুনতেই চায় না। তখন বিরক্তি বাড়ে, ধৈর্য কমে, কখনো কখনো চিৎকার করতে হয়।

শিশু বিশেষজ্ঞ সুমাইয়া মিম বলেন, শিশুরা অবাধ্য হতে কথা শোনে না, ব্যাপারটা এমন নয়। অনেক সময় সমস্যা হয় আমাদের কথা বলার ধরনে। কথা বলার ধরনে একটু পরিবর্তন আনলেই শিশুরা অনেক বেশি মনোযোগী হতে পারে।

এক্ষেত্রে ছয়টি বিষয় মেনে চলার পরামর্শ দেন তিনি।

একসঙ্গে অনেক কথা বলবেন না

‘টিভি বন্ধ করো, হাত ধোও, জামা বদলাও, দাঁত ব্রাশ করো, তারপর ঘুমাতে যাও।’

এতগুলো নির্দেশ একসঙ্গে দিলে ছোট শিশুর পক্ষে সব মনে রাখা কঠিন। সে হয়তো প্রথম কাজটাই করবে, বাকিগুলো ভুলে যাবে। তাই কাজগুলো ভাগ করে বলুন।

প্রথমে বলুন, ‘কার্টুন শেষ হলে টিভি বন্ধ করো।’

সেটা হয়ে গেলে বলুন, ‘এখন দাঁত ব্রাশ করো।’

এভাবে ছোট ছোট নির্দেশ শিশুদের মেনে চলতে ও মনে রাখতে অনেক সহজ হয়।

সরাসরি বলুন

অনেক সময় আমরা মূল কথার আগে অনেক ব্যাখ্যা দিই।

‘আজ পার্কে যাব, সেখানে দৌড়াবে, খেলবে, তাই স্যান্ডেল পরে গেলে সমস্যা হবে…’ এত লম্ব কথা শুনতে গিয়ে শিশু মূল কথাটাই ভুলে যায়।

তার বদলে বলুন, ‘আমরা পার্কে যাচ্ছি। এখন জুতা পরে নাও।’ ছোট ও পরিষ্কার করে কথা বললে শিশুদের শুনতে, বুঝতে ও মানতে সুবিধা হয়।

দূর থেকে চিৎকার না করে কাছে যান

রান্নাঘর থেকে চেঁচিয়ে বললেন, ‘পড়তে বসো!’ কিন্তু শিশুর মন তখন খেলায়। সে হয়তো শুনলই না।
তাই কাছে গিয়ে, চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলুন। প্রয়োজনে কাঁধে আলতো করে হাত রাখুন। এতে সে বুঝবে, আপনি গুরুত্বপূর্ণ কিছু বলছেন।

আরেকটি মজার উপায় হলো, কথা বলার পর জিজ্ঞেস করা, ‘আমি কী বললাম, বলো তো?’
তাহলে বোঝা যাবে সে সত্যিই শুনেছে কি না।

একই কথা বারবার বলবেন না

অনেক অভিভাবক একই কথা পাঁচ-ছয়বার বলেন। ফল কী হয়?

শিশু শিখে যায় যে, প্রথমবার শুনতে হবে না। কারণ মা বা বাবা আরও কয়েকবার বলবেন!

তাই এক বা দুইবার বলুন। তারপরও না শুনলে আগে থেকে ঠিক করা নিয়ম মেনে চলুন। আবার নির্দেশ মেনে চললে প্রশংসা করতেও ভুলবেন না।

এটা ‘ভালো হয়েছে’ বা ‘ধন্যবাদ, তুমি আমার কথা শুনেছ’, এগুলো বললে শিশুরা অনেক খুশি হয়।

শোনার অভ্যাসকে মজার করে তুলুন

শিশুরা খেলতে খেলতে সবচেয়ে ভালো শেখে। হাঁটতে বের হয়ে বলুন, ‘শোনো তো, কয়টা পাখির ডাক শুনতে পাও?’

অথবা বলুন, ‘বাতাসের শব্দটা কেমন লাগছে?’

এ ধরনের ছোট ছোট খেলায় শিশুর মনোযোগ বাড়ে। শোনার অভ্যাসও গড়ে ওঠে।

তার কথা শুনুন

শিশুরা শুধু কথা শুনে শেখে না, দেখেও শেখে। আপনি যদি মোবাইল দেখতে দেখতে তার কথা শোনেন, তাহলে সে-ও একসময় অন্যের কথা গুরুত্ব দেবে না।

তাই সন্তান যখন কোনো গল্প বলছে, স্কুলের কথা বলছে বা নতুন কিছু দেখাতে চাইছে, তখন একটু সময় দিন। মোবাইলটা হাত থেকে নামিয়ে রাখুন। তার দিকে তাকান। প্রশ্ন করুন।

শিশুরা যখন বুঝতে পারে, তাদের কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনা হচ্ছে, তখন তারাও অন্যের কথা বেশি মনোযোগ দিয়ে শুনতে শেখে।

সন্তানকে কথা শোনানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো—কম কথা বলা, স্পষ্ট করে বলা, ধৈর্য ধরা এবং তার কথাও মন দিয়ে শোনা।

205 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন