২৬শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ

আপডেট: আগস্ট ২৬, ২০২৬

অনলাইন নিউজঃ সারা দেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)  আজ বুধবার। এদিন বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমন ও তিরোধানের দিন। পৃথিবীতে তার আগমনের দিনটি মুসলিম সম্প্রদায় তাদের আবেগ, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা দিয়েই পালন করে। পৃথিবীর অন্যান্য মুসলিম দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশেও দিনটি গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয়। এ দিন সরকারি-বেসরকারি ছুটি। দেশব্যাপী দোয়া মাহফিল ও রাসুল (সা.)-এর জীবনী আলোচনাসহ নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। দেশে যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এদিকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা, ভালোবাসা ও মানবিকতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় পরিহার করে শান্তি, সম্প্রীতি, সাম্য ও মানবিকতার ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে। রাষ্ট্রপতি দেশবাসী ও বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদও জানিয়েছেন।

অন্যদিকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শুভাগমন মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য ও মহিমান্বিত ঘটনা। তার আবির্ভাব মানুষের জন্য সত্য ও আলোর এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। তিনি মানুষকে তাওহিদের দিকে আহ্বান করার পাশাপাশি সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, মানবিকতা ও শান্তির শিক্ষা দিয়েছেন। তার পবিত্র জীবন ও কর্ম সমগ্র মানবজাতির জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ ও অনুসরণীয় আদর্শ হয়ে আছে।

এদিকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে জাতীয় কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে উদযাপনে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন ও সশস্ত্র বাহিনীর সব স্থাপনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক আইল্যান্ড, লাইটপোস্ট, বিভিন্ন স্থান ও সড়ক জাতীয় পতাকা, রঙিন পতাকা এবং ‘কালেমা তাইয়্যেবা’ লিখিত ব্যানারে সজ্জিত করা হবে।

বাংলাদেশ সচিবালয় মসজিদসহ দেশের সব মসজিদে দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ওয়াজ মাহফিল, সেমিনার ও টকশো প্রচারের পাশাপাশি কেরাত, হামদ ও নাত, স্বরচিত কবিতা পাঠ, ছাত্রছাত্রীদের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং আরবিতে খুতবা লেখা প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে। এ ছাড়া স্মরণিকা বা ক্রোড়পত্র প্রকাশ এবং বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ প্রান্তে মাসব্যাপী ইসলামিক বইমেলার আয়োজন করা হবে।

বিশেষ নিরাপত্তা দেশজুড়ে

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে র্যাব। গতকাল মঙ্গলবার বাহিনীর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে র্যাবের নিয়মিত টহল জোরদার এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আজ বুধবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানস্থলে প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হবে।

এ ছাড়া নিরাপত্তা ঝুঁকি পর্যালোচনা করে প্রতিটি ব্যাটালিয়ন নিজ নিজ এলাকায় নিরাপত্তা পরিকল্পনা করেছে। অনুষ্ঠানস্থলের নিরাপত্তায় আগেই প্রয়োজনীয় সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।

4 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন