২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার

বিশ্বকাপে আয় কার বেশি, ফিফা নাকি আয়োজক দেশ?

আপডেট: মে ২৬, ২০২৬

অনলাইন নিউজঃ বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজন মানে শুধু খেলা নয়, এর পেছনে রয়েছে বিশাল অর্থনীতি ও ক্ষমতার খেলা। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের উদাহরণই বলছে, আয়োজনকারী দেশ বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও মূল লাভের বড় অংশ যায় ফিফার হাতে।

কাতার বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ফুটবল বিশ্ব যেমন চমকে দিয়েছিল সৌদি আরবের আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়, তেমনি আলোচনায় আসে আয়োজনের বিশাল ব্যয়। ২০১৮ সালে রাশিয়া যেখানে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলার খরচ করে, সেখানে কাতার ব্যয় করে প্রায় ২২০ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে নতুন শহর, মেট্রো ব্যবস্থা এবং আটটি আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়।

তবে আয়োজক দেশ হিসেবে কাতারের প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক লাভ ততটা হয়নি। প্রায় ১০ লাখ পর্যটক এলেও বড় অংশই পার্শ্ববর্তী দেশে অবস্থান করে। টুর্নামেন্ট ও সম্প্রচার থেকে কাতারের আয় ছিল আনুমানিক ১.৫ বিলিয়ন ডলার, যা ব্যয়ের তুলনায় খুবই কম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বকাপ আয়োজনের আসল উদ্দেশ্য অনেক সময় অর্থনৈতিক লাভ নয়, বরং ভূরাজনৈতিক প্রভাব ও ‘সফট পাওয়ার’ তৈরি করা। ছোট দেশ কাতার তাদের আন্তর্জাতিক অবস্থান শক্ত করতে এই আয়োজনকে ব্যবহার করেছে, বিশেষ করে ২০১৭ সালের আঞ্চলিক সংকটের পর।

অন্যদিকে, ফিফার আয় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখায়। বিশ্বকাপ ঘিরে চার বছরের অর্থনৈতিক চক্রে ফিফা প্রায় ৭.৫ বিলিয়ন ডলার আয় করে, যার মধ্যে কাতার বিশ্বকাপ থেকেই আসে ৬.৩ বিলিয়ন ডলার।

ফিফার আয়ের প্রধান উৎস হলো টেলিভিশন স্বত্ব, যা মোট আয়ের প্রায় ৪৫ শতাংশ। এরপর রয়েছে স্পনসরশিপ ও মার্কেটিং, লাইসেন্সিং, টিকিট ও ভিআইপি হসপিটালিটি। অ্যাডিডাস, কোকা-কোলা, ভিসা, বাডওয়াইজারসহ বড় ব্র্যান্ডগুলো এই আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এই বিশাল আয়ের বিপরীতে ফিফা ব্যয় করে প্রায় ৬.৩ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বড় অংশ যায় টুর্নামেন্ট আয়োজন, প্রযুক্তি, স্টাফিং এবং প্রাইজমানি খাতে। আর্জেন্টিনা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে ৪২ মিলিয়ন ডলার পায়, আর গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়া দলগুলোও কোটি কোটি ডলার পায়।

এছাড়া ফিফার উন্নয়ন প্রকল্প ‘ফিফা ফরোয়ার্ড’-এর মাধ্যমে বিশ্বের ২১১টি সদস্য দেশকে অনুদান দেওয়া হয়, যা সংস্থাটির রাজনৈতিক প্রভাব আরও বাড়ায়।

বিশেষ বিষয় হলো, বিপুল আয় করলেও ফিফা সুইজারল্যান্ডে নিজেদের একটি নন-প্রফিট সংস্থা হিসেবে নিবন্ধিত, ফলে করপোরেট কর দিতে হয় না। বর্তমানে তাদের রিজার্ভ ফান্ড প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবল যেমন মাঠের খেলা, তেমনি এর আড়ালে রয়েছে ফিফার বিলিয়ন ডলারের এক বিশাল বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য, যেখানে আয়োজক দেশ ব্যয় করে বিপুল অর্থ, আর মূল লাভের বড় অংশই যায় বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার হাতে।

সূত্র: এই সময়

7 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন