১৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার

শিরোনাম
ইংল্যান্ড ভুলেই গিয়েছিল ‘অ্যাটাক ইজ দ্য বেস্ট ডিফেন্স’ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের বিস্ফোরণ: রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পরিচ্ছন্ন বাসযোগ্য নগর গড়তে সারাদেশে কাজ করবেন বিডি-ক্লিন সদস্যরা বিপৎসীমার ওপরে তিন নদীর পানি, নতুন এলাকায় বন্যার শঙ্কা বরিশালে বৃক্ষরোপণ ও ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমবাপ্পের পর দেম্বেলের গোল, ২–০ গোল ফ্রান্সের জয় ব্রাজিল শেষ ষোলোতে নরওয়ের বিপক্ষে জিতবে কি না, ভবিষ্যদ্বাণী সুপার কম্পিউটারের প্রতিশোধ ও আমেরিকা ধ্বংস হোক স্লোগানে প্রকম্পিত মোসাল্লা ইরানে ফের ভয়াবহ হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র

অবশেষে কমলো তেলের দাম

আপডেট: মার্চ ১১, ২০২৬

অনলাইন নিউজ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালী অবরোধ না করার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর তেলের বাজারে এই পতন দেখা যায়।

মঙ্গলবার সাতসকালেই এশিয়ায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৩.০৫ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক নাইমেক্স লাইট সুইট ক্রুডের দাম ৬.১ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৮৮.৯৬ ডলারে।

সোমবার মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতের আশঙ্কায় তেলের দাম প্রায় ১২০ ডলার পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল। তবে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হতে পারে—এমন ইঙ্গিত দেওয়ায় বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, যদি ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের প্রবাহ বন্ধ করার চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘এ পর্যন্ত যতটা আঘাত করেছে তার চেয়ে ২০ গুণ বেশি কঠোরভাবে’ জবাব দেবে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, আপাতত তেলের দাম কমলেও বাজার এখনো অত্যন্ত অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইন্টারক্যাপিটাল এনার্জির বিশ্লেষক আলবার্তো বেলোরিন বলেন, সংঘাত বাড়লে দাম আবার দ্রুত বাড়তে পারে, আর উত্তেজনা কমলে তা কমে আসবে।

তেলের দামের পতনের প্রভাব শেয়ারবাজারেও দেখা গেছে। মঙ্গলবার জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ৩.৩ শতাংশ বেড়েছে। হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচক বেড়েছে ১.৭ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক বেড়েছে ৬.২ শতাংশ।

বিশ্ব জ্বালানি বাজারে গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো হরমুজ প্রণালি। এই সরু জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন করা হয়। ফলে এখানে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান দামের পতন সত্ত্বেও তেলের দাম এখনো সংঘাত শুরুর আগের সময়ের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে সরবরাহ ঝুঁকি বিবেচনায় তেল পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ আরোপ করা হতে পারে, যা আবারও দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।

এদিকে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে গ্রুপ অব ৭, (জি৭) দেশগুলো। জি৭ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) বৈশ্বিক তেল মজুত ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী রাচেল রিভস বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত উত্তেজনা কমানো এবং ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন জরুরি। প্রয়োজনে আইইএ সদস্য দেশগুলোর সম্মিলিত তেল মজুত বাজারে ছাড়ার উদ্যোগে যুক্তরাজ্য সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও তিনি জানান।

সূত্র: বিবিসি

177 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন