২রা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

বরিশালে সেচ্ছাসেবী দিয়ে চলছে করোনার নমুনা সংগ্রহ

আপডেট: এপ্রিল ২১, ২০২১

নিজস্ব প্রতিনিধি ॥
বরিশালে দিন দিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা যেমন বাড়ছে তেমনি করোনার নমুনা সংগ্রহের চাপও বেড়েছে। কিন্তু নমুনা সংগ্রহকারী হিসেবে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়োগপ্রাপ্ত কেউ নেই। মাত্র একজন থাকলেও টানা দুই মাস কাজ করার পর চলে গেছেন তিনি। তাই নমুনা সংগ্রহের জন্য একমাত্র ভরসা চার সেচ্ছাসেবী। ওই চার সেচ্ছাসেবী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো ধরণের সহযোগিতা, সুযোগ সুবিধা বা প্রণোদনা ছাড়াই বিনামূল্যে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদেরকে সনদ দেয়া হবে যা ভবিষ্যতে তাদের চাকরি পেতে সহায়ক হবে। এছাড়া আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে এ সংকটের সমাধান করার কথাও বলছেন হাসপাতাল পরিচালক।

দক্ষিণাঞ্চলের ৬ জেলায় করোনা সংক্রমনের হার বেড়েই চলছে। গত ২৪ ঘন্টায় ১৯২ জনের করোনা শনাক্ত হওয়ায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ১৩ হাজার ৭৬১ জনে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরিশাল নগরীতে। গত মঙ্গলবার জেলায় ৪৯জনের মধ্যে মহানগরীতেই আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪১ জনে। আর বুধবার জেলায় আক্রান্ত ৯০ জনের মধ্যে মহানগরীতে শনাক্ত হয় ৭৭ জন।

শেবাচিম হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত বছর মার্চ থেকে করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগী এবং পরীক্ষা করতে আসা মানুষের নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু করেন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিয়োগকৃত টেকনোলজিস্ট বিভূতি ভূষণ এবং তার সহযোগী বায়জিদ। টানা দুই মাস নমুনা সংগ্রহের পর বিভূতি ও বায়জিদকে বিশ্রামে পাঠানো হয়।

এরপর থেকে নমুনা সংগ্রহে সেচ্ছায় কাজ শুরু করেন পাঁচ মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট। কিছুদিন পর একজন চলে যান। বাকি চারজন গত বছরের জুন থেকে টানা কাজ করে চলেছেন।

নমুনা সংগ্রহকারী স্বেচ্ছাসেবী মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) শাকিল আহমেদ জানান, প্রতিদিন একশ’র বেশি নমুনা সংগ্রহ করতে হয়। করোনা ইউনিটে ভর্তি রোগী থেকে শুরু করে বাইরে থেকে করোনা পরীক্ষার জন্য আসা মানুষের নমুনা তারাই সংগ্রহ করেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোন ধরণের সহযোগিতাতো পরের কথা এখন পর্যন্ত তারা কোন প্রণোদনাও পাননি বলে জানান তিনি।

আরেক স্বেচ্ছসেবী মোঃ হোসেন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা চারজন মিলে ২০ হাজারের বেশি নমুনা সংগ্রহ করেছি। ‘নমুনা সংগ্রহ করতে গিয়ে আমাদের মধ্যে দুইজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়। মোটামুটি সুস্থ হয়ে আবার কাজে ফিরেছে। আমরা কাজ না করলে কাজ করার কোনো লোক নেই এখানে। এতে করে বিপাকে রয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কেননা, এখানে কেউ কাজ করতে চাচ্ছে না।

সেচ্ছাসেবীরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন জানিয়েছে শেবাচিম’র ইনডোর ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. সুদীপ হালদার বলেন, ‘নমুনা সংগ্রহে বা করোনা রোগীদের সেবায় যে স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করছেন তাদের উপযুক্ত মর্যাদা এবং বেতনকাঠামোতে আনা প্রয়োজন’।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘স্বেচ্ছসেবকদের আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ এবং বেতনকাঠামোর মধ্যে আনার প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়া তাদের একটি সনদ দেয়া হবে। যা তাদের চাকরি পেতে সহায়ক হবে।’

বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দিন হায়দার বলেন, ‘সুযোগসুবিধা না দিলে স্বেচ্ছাসেবকরা কাজের আগ্রহ হারাবে। এদের বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে।’

220 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন