১১ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার

ঘূর্ণিঝড় ‘যশ’ মোকাবিলায় যে সতর্কতা নেয়া দরকার

আপডেট: মে ২১, ২০২১

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ধেয়ে আসা প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘যশ’ আগামী ২৬-২৮ মের মধ্যে বাগেরহাট উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ‘যশ’ মোকাবিলায় শুক্রবার (২১ মে) বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আ ন ম ফয়জুল হকের সভাপতিত্বে ভার্চ্যুয়ালি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেজন্য উপকূলীয় অঞ্চলের সব নাগরিকদের সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ভার্চ্যুয়ালি জরুরি ভিত্তিতে আলোচনা সভায় ঘূর্ণিঝড় ‘যশ’ এর ক্ষয়ক্ষতি কমাতে বাগেরহাট ও উপকূলীয় এলাকার সব নাগরিককে সচেতন এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকদের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়। সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আ ন ম ফয়জুল হক বলেন, উপকূলীয় জেলা হওয়ায় ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে বাগেরহাটের মানুষ একটু বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবানী অনুযায়ী আমরা জেনেছি ঘূর্ণিঝড়টি ২৬ মে নাগাদ ভারতের উড়িষ্যার উপকূল এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা দিয়ে অতিক্রম করতে পারে। তাই আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।

জেলার ৩৪৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করতে সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত পানি ও আলোর ব্যবস্থা রাখা হবে। আসন্ন ঝড় মোকাবিলা করতে ওয়ার্ড পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, রেড ক্রিসেন্টসহ সব সরকারি বেসরকারি সংস্থাকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরাও কাজ করবে ইয়াস মোকাবিলায়। জেলার জনগণকে ঘরে পর্যাপ্ত পরিমাণ শুকনো খাবার, দিয়াশলাই ও ঝড়ের সময় প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি রাখার অনুরোধ জানান জেলা প্রশাসক।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন ঘূর্ণিঝড়টি ২৬ থেকে ২৮ মে নাগাদ ভারতের উড়িষ্যার উপকূল এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা দিয়ে অতিক্রম করতে পারে। মধ্যম মানের এ ঘূর্ণিঝড়টি প্রবেশের সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে গতিবেগ কম হলেও ২৬ মে ভরা পূর্ণিমার কারণে উপকূলীয় এলাকায় ৮ থেকে ১২ ফুটের বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। আর তা হলে উপকূলীয় এলাকার মানুষের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।

 

418 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন