আপডেট: মার্চ ২৫, ২০২৬
রফিকুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধিঃ বুধবার, ভোররাত তখন সাড়ে ৪টা। তখনো ভোরের আলো পুরোপুরি ফুটে ওঠেনি। লোহালিয়াা নদীর বুকে নোঙর করা তরমুজভর্তি ট্রলার। দিনভর পরিশ্রমের পর একটু বিশ্রামে ছিলেন চাষিরা।
লাল টুকটুকে তরমুজগুলো যেন নতুন দিনের আশা হয়ে সাজানো ছিল। কিন্তু সেই আশার মাঝেই আচমকা এক ধাক্কা। সবকিছু বদলে গেল কয়েক মুহূর্তেই।
বুধবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে লোহালিয়া নদীতে নোঙর করা ট্রলারটিকে ধাক্কা দেয় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী লঞ্চ। প্রচণ্ড আঘাতে ট্রলারটি ডুবে যায়।
ভেতরে তখন ঘুমিয়ে ছিলেন ছয়জন। হঠাৎ ঘুম ভেঙে প্রাণ বাঁচাতে ছুটে যান সবাই। চারজন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও রেজাউল করিম ও নাসির নিখোঁজ হন।
দুপুর গড়াতে গড়াতে নদীর বুক থেকেই ফিরে আসে তাদের নিথর দেহ। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল লাশ দুটি উদ্ধার করে।
রাঙ্গাবালী উপজেলার চল লক্ষ্মী গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল করিম। বাবা ওয়াজেদ হাওলাদারের সঙ্গে তরমুজ চাষই ছিল জীবিকার ভরসা।
আরেকজন মো. নাসির উদ্দিন। তিনি চরবেষ্টিন এলাকার আব্দুল ফকিরের ছেলে। সংসারের চাকা ঘোরাতে তিনিও ছিলেন এই তরমুজের সঙ্গে জড়িয়ে।
স্থানীয়রা বলছেন, মৌসুম এলেই এই নদীপথেই তরমুজ নিয়ে যাত্রা করেন চাষিরা। রাতভর নদীতে ভেসে থেকে ভোরে গন্তব্যে পৌঁছানো। এটাই ছিল তাদের চেনা ছক। সেই চেনা পথই এবার কেড়ে নিল দুইটি জীবন।
পটুয়াখালী নদী ফায়ার স্টেশনের টিম লিডার মজিবর রহমান জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর নদী থেকেই পাওয়া যায় নিখোঁজ দুজনের দেহ।
লোহালিয়ার জলে এখনো ভাসছে কিছু তরমুজ। উল্টে থাকা ট্রলারের পাশে সেগুলো যেন নীরব সাক্ষী হয়ে আছে।
যে তরমুজগুলো বাজারে পৌঁছে কারও ঘরে হাসি আনার কথা ছিল, সেগুলোই আজ হয়ে উঠেছে শোকের প্রতীক।
নদীর এই জল শুধু ফসলই নয়, বয়ে নিয়ে গেল দুইটি পরিবারের ভরসা, দুইটি জীবনের স্বপ্নও।