১৪ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, সোমবার

গভীর রাতে ফুটপাত থেকে নবজাতককে উদ্ধার করলো পুলিশ

আপডেট: এপ্রিল ২৪, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক:: চট্টগ্রামে ফুটপাত থেকে এক নবজাতককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ২টায় নগরীর জিইসি মোড়ে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

জানা যায়, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিভাগের কর্মকর্তা আল আমিনের বাসা নগরের জিইসি প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস লাগোয়া।

 

রাত ১টার দিকে বাসার নিচে হইচই শুনে তিনি বের হন। গিয়ে দেখেন ফুটপাতে একটি কন্যাশিশু কান্না করছে। পরে তিনি জাতীয় জরুরি সেবার হটলাইন নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে রাত পৌনে ২টার দিকে পুলিশ নবজাতককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। বর্তমানে শিশুটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।

 

এ বিষয়ে চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর মাহমুদ বলেন, হাসপাতালে ভর্তির সময় শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। ভোর ৪টার দিকে অবস্থার উন্নতি হয়েছে।

 

নবজাতকের বিষয়ে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে ওসি আলমগীর মাহমুদ বলেন, প্রথমে কারা তাকে ফেলে গেছে সেটি আমরা তদন্ত করে দেখব। আশা করি নবজাতকের প্রকৃত অভিভাবকের সন্ধান আমরা পাব। সেটি যদি পাওয়া না যায়, তাহলে সিএমপি কমিশনার স্যারের নির্দেশে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করব। সেক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অথবা জিডিমূলে শিশুসদনে পাঠানো হবে।

 

এর আগেও আলমগীর মাহমুদ আকবর শাহ থানার ওসি থাকাকালীন ২০১৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টায় চট্টগ্রাম নগরের কর্নেলহাট এলাকার একটি ডাস্টবিনে পাওয়া শিশুকে উদ্ধার করেন। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রেখে চিকিৎসা দেয় পুলিশ। একুশের প্রথম প্রহরের কিছুক্ষণ আগে শিশুটিকে উদ্ধার করার কারণে তার নাম রাখা হয় ‘একুশ’।

 

উদ্ধার থেকে শুরু করে চিকিৎসাসহ সব কাজেই সামনে থেকে ছিলেন মোহাম্মদ আলমগীর। পরে শিশুটি তিনমাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর যখন সুস্থ হয়, তখন শিশুটিকে পেতে আদালতে ১৬ জন আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে ১২ জন আবেদনকারীর উপস্থিতিতে যাচাই-বাছাই ও শুনানি শেষে আদালত শর্তসাপেক্ষে ‘একুশ’কে শাকিলা-জাকের দম্পতির জিম্মায় দেয়ার নির্দেশ দেন।

 

একই বছরের ৬ এপ্রিল প্রথম অতিরিক্ত চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ (শিশু আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত) জান্নাতুল ফেরদৌসের আদালতে শিশুটিকে শাকিলার কোলে তুলে দেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডের সহকারী রেজিস্ট্রার দেবাশীষ কুমার রায়। এ সময় শাকিলার স্বামী চিকিৎসক জাকের ইসলাম পাশে ছিলেন।

77 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন