প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই রাশিয়া ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক সম্পদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিচ্ছে।
আপডেট: মার্চ ৬, ২০২৬
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই রাশিয়া ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক সম্পদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিচ্ছে।
এর আগে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এক বিশ্লেষণে জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে ইরানের হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্তত সাতটি মার্কিন সামরিক স্থাপনার যোগাযোগ ও রাডার ব্যবস্থার কাছাকাছি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সপ্তাহান্ত ও সোমবার চালানো এসব হামলার লক্ষ্য ছিল বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন ঘাঁটিগুলো।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার দেওয়া গোয়েন্দা তথ্য ইরানকে এই হামলার পরিকল্পনা করতে সহায়তা করছে। কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধ শুরুর এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান শনাক্ত করার ক্ষেত্রে ইরানের নিজস্ব সক্ষমতা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও চীন এই সংঘাতে তেহরানকে কোনো সামরিক সহায়তা দিচ্ছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চীনের তুলনায় অনেক বেশি। ২০২২ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার অভিযান শুরুর পর থেকে তেহরান মস্কোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে ওঠে।
ইরান রাশিয়াকে এমন প্রযুক্তি দিয়েছে, যার মাধ্যমে কম খরচের আক্রমণাত্মক ড্রোন তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত হামলার পরও ইরান পিছু হটার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না। গত এক সপ্তাহে তেহরান সামরিক স্থাপনা, কূটনৈতিক মিশন এবং জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে ওয়াশিংটন ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করেছে।
সবচেয়ে আলোচিত হামলাগুলোর একটি ছিল কাতারের আল উদেইদ এয়ার বেস—যা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি। এছাড়া রিয়াদ ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসেও ইরানি ড্রোন আঘাত হেনেছে। সৌদি আরব ও কাতারের তেল ও গ্যাস অবকাঠামোতেও একাধিক হামলা চালানো হয়েছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই যুদ্ধ কতদিন চলবে সে বিষয়ে তার কোনো সময়সীমা নেই। উভয় পক্ষই মনে করছে, শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষই আগে নতি স্বীকার করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি রাশিয়ার গোয়েন্দা সহায়তা অব্যাহত থাকে, তাহলে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের হামলা আরো ঘন ঘন এবং আরো প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।