৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

শিরোনাম
হরমুজ প্রণালী বন্ধের পরিকল্পনা নেই: ইরান নৌপথে নিরাপদযাত্রা নিশ্চিতে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে: প্রতিমন্ত্রী মার্কিন ঘাঁটিতে হামলায় ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে রাশিয়া মাহফুজ-তাজনুভার নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘অলটারনেটিভস’র কমিটি ঘোষণা ২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচ দক্ষিণাঞ্চলে বিস্তৃত প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর সুন্দরবন বিচারব্যবস্থা সংস্কার ও নারী নির্যাতন রোধে শক্ত অবস্থান নেবে এনসিপি : নাহিদ ইসলাম এনসিপি থেকে ৭ শীর্ষ নেতার পদত্যাগ জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

মার্কিন ঘাঁটিতে হামলায় ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে রাশিয়া

আপডেট: মার্চ ৬, ২০২৬

অনলাইন নিউজ: চলমান যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর অবস্থান সম্পর্কিত গোয়েন্দা তথ্য ইরানকে দিচ্ছে রাশিয়া। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার পরিকল্পনা করতে তেহরানের জন্য সুবিধা হচ্ছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এমন তথ্য জানিয়েছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই রাশিয়া ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক সম্পদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিচ্ছে।

এর মধ্যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, সামরিক বিমান এবং বিভিন্ন ঘাঁটির অবস্থানও রয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এই সহায়তা ‘বেশ বিস্তৃত একটি প্রচেষ্টা’ বলেই মনে হচ্ছে। 

এর আগে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এক বিশ্লেষণে জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে ইরানের হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্তত সাতটি মার্কিন সামরিক স্থাপনার যোগাযোগ ও রাডার ব্যবস্থার কাছাকাছি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সপ্তাহান্ত ও সোমবার চালানো এসব হামলার লক্ষ্য ছিল বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন ঘাঁটিগুলো।

হামলায় স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল, রাডার ডোমসহ এমন কিছু যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেগুলো উপসাগরে মার্কিন বাহিনীর কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশ্লেষণে প্রশ্ন উঠেছে—কীভাবে ইরান এত নির্ভুলভাবে বিভিন্ন দেশে থাকা সংবেদনশীল মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারছে। 

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার দেওয়া গোয়েন্দা তথ্য ইরানকে এই হামলার পরিকল্পনা করতে সহায়তা করছে। কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধ শুরুর এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান শনাক্ত করার ক্ষেত্রে ইরানের নিজস্ব সক্ষমতা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ফলে বাইরের গোয়েন্দা তথ্য তেহরানের জন্য আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। 

তবে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও চীন এই সংঘাতে তেহরানকে কোনো সামরিক সহায়তা দিচ্ছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চীনের তুলনায় অনেক বেশি। ২০২২ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার অভিযান শুরুর পর থেকে তেহরান মস্কোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে ওঠে।

ইরান রাশিয়াকে এমন প্রযুক্তি দিয়েছে, যার মাধ্যমে কম খরচের আক্রমণাত্মক ড্রোন তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।

এসব ড্রোন ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে এবং কিয়েভের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এ বিষয়ে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, রাশিয়ানরা খুব ভালোভাবেই জানে আমরা ইউক্রেনকে কী ধরনের সহায়তা দিচ্ছিলাম। তাই কিছুটা প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ তারা পেয়ে খুশি হয়েছে। 

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত হামলার পরও ইরান পিছু হটার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না। গত এক সপ্তাহে তেহরান সামরিক স্থাপনা, কূটনৈতিক মিশন এবং জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে ওয়াশিংটন ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করেছে।

সবচেয়ে আলোচিত হামলাগুলোর একটি ছিল কাতারের আল উদেইদ এয়ার বেস—যা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি। এছাড়া রিয়াদ ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসেও ইরানি ড্রোন আঘাত হেনেছে। সৌদি আরব ও কাতারের তেল ও গ্যাস অবকাঠামোতেও একাধিক হামলা চালানো হয়েছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই যুদ্ধ কতদিন চলবে সে বিষয়ে তার কোনো সময়সীমা নেই। উভয় পক্ষই মনে করছে, শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষই আগে নতি স্বীকার করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি রাশিয়ার গোয়েন্দা সহায়তা অব্যাহত থাকে, তাহলে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের হামলা আরো ঘন ঘন এবং আরো প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

9 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন