২২শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার

বাড়ি থেকে বের করে দিলেন ছেলে, নিরাপত্তাহীনতায় মা

আপডেট: আগস্ট ২১, ২০২৬

অনলাইন নিউজঃ নাটোরের নলডাঙ্গায় স্বামীর মৃত্যুর প্রায় এক দশক পর বসতবাড়ি থেকে সৎ মাকে উচ্ছেদের চেষ্টা এবং বসতভিটার গাছপালা কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছেলে মিলন তালুকদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিজের জীবনের নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষার দাবিতে নলডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন জাহানারা বেওয়া (৫৫) নামে এক নারী।

ঘটনাটি উপজেলার রামসার কাজীপুর কামারপাড়া এলাকার।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নলডাঙ্গা উপজেলার কাজীপুর গ্রামের মৃত ময়নাল হক তালুকদারের ছেলে মোজাম্মেল হক তালুকদারের সঙ্গে জাহানারা বেওয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর মোজাম্মেল হক তালুকদার তার নিজ জমিতে একটি বসতবাড়ি নির্মাণ করে স্ত্রী জাহানারা বেওয়াকে নিয়ে সেখানে বসবাস শুরু করেন। স্বামীর জীবদ্দশায় ওই বাড়িতেই তারা নিয়মিত বসবাস করতেন।

জাহানারা বেওয়ার অভিযোগ, স্বামী মোজাম্মেল হক তালুকদার মারা যাওয়ার পরও তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই বসতবাড়িতে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু স্বামীর মৃত্যুর প্রায় ৮ থেকে ১০ বছর পর তার প্রথম পক্ষের স্ত্রীর ছেলে মিলন তালুকদার ও তার সহযোগীরা হঠাৎ করে ওই বসতভিটার গাছপালা কেটে নিয়ে যান। একই সঙ্গে বাড়িঘর ছেড়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় তাকে হুমকি ও চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগকারী জাহানারা বেওয়া বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে এই বাড়িতেই বসবাস করছি। এখন হঠাৎ করে আমাকে বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাই বাধ্য হয়ে থানায় অভিযোগ করেছি।

তিনি আরও বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িতে বসবাস করলেও বর্তমানে তিনি এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নিজের নিরাপত্তার পাশাপাশি বসতবাড়ি ও সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের সহযোগিতা চান তিনি।

এ ঘটনায় নিজের জীবনের নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন জাহানারা বেওয়া। পাশাপাশি বসতভিটার গাছপালা কেটে নেওয়া এবং তাকে উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে নলডাঙ্গা থানার এসআই শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে জাহানারা বেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মিলন তালুকদারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এদিকে, বসতভিটার মালিকানা, উত্তরাধিকার এবং গাছপালা কেটে নেওয়ার অভিযোগসহ পুরো বিষয়টির সত্যতা তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

7 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন