অনলাইন নিউজঃ দেশে মাত্র একটি তেল শোধনাগার থাকায় জ্বালানি নিরাপত্তাঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেছেন, চাহিদার বেশির ভাগ জ্বালানি পরিশোধিত অবস্থায় আমদানি করতে হওয়ায় ব্যয় বাড়ছে এবং সস্তা অপরিশোধিত তেল ব্যবহারের সুযোগও কাজে লাগানো যাচ্ছে না। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের (এনডিসি) ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/১’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন।
এই কোর্সে মোট ৪৫ জন ফেলো অংশগ্রহণ করেন, যাঁদের মধ্যে ছিলেন পাঁচজন সংসদ সদস্য, জ্যেষ্ঠ সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তা, শিক্ষক, চিকিৎসক, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি, কূটনীতিক এবং করপোরেট প্রতিনিধি রয়েছেন।
সেনাপ্রধান তাঁর বক্তব্যে সাম্প্রতিক তেলসংকটের বিষয়টি এনে স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও দেশে তেল শোধনের পর্যাপ্ত সক্ষমতা তৈরি না হওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করেন।
সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমরা এক চ্যালেঞ্জিং পৃথিবীতে বাস করছি, প্রতিদিন নতুন নতুন সমস্যা সামনে আসছে। এনডিসিতে আসার পথে আমি দেখলাম, মানুষ জ্বালানি তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। এখানেই জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি চলে আসে।
জ্বালানি নিরাপত্তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে তা অত্যন্ত স্পষ্ট। আমাদের একটি মাত্র রিফাইনারি (ইস্টার্ন রিফাইনারি) আছে, যা মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করতে পারে। বাকি সব জ্বালানি আমাদের পরিশোধিত অবস্থায় চড়া দামে আমদানি করতে হয়।’
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৫ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আমরা ইস্টার্ন রিফাইনারির উন্নয়ন করিনি বা দ্বিতীয় কোনো রিফাইনারি তৈরি করিনি।
রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল অনেক সস্তা হওয়া সত্ত্বেও রিফাইনারির অভাবে আমরা তা ব্যবহার করতে পারছি না। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা এ দেশের প্রতিটি মানুষের জীবনে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন।’
কক্সবাজার বা চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিমানবাহিনীর শক্তিশালী অবস্থান থাকলে রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টি হতো না বলে মনে করেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমি আপনাদের সামরিক বিষয়াবলিতে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর আরো বেশি সম্পৃক্ত হতে উৎসাহিত করি। কারণ এগুলো জাতীয় প্রতিষ্ঠান এবং এগুলোর সক্ষমতা সম্পর্কে জানার অধিকার আপনাদের রয়েছে।
যেমন—বাংলাদেশ নৌবাহিনী আমাদের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাহিনী। আমরা ব্যাপকভাবে আমদানি ও রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল এবং আমাদের সমুদ্রপথের যোগাযোগ রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। নৌবাহিনীকে শক্তিশালী না করলে এই যোগাযোগ ব্যবস্থা সুরক্ষিত থাকবে না।’
ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘আমাদের সমুদ্রপথ এবং জাহাজগুলো সুরক্ষায় নৌবাহিনীকে আরো শক্তিশালী করা প্রয়োজন। একইভাবে বিমানবাহিনীর কথা যদি বলি, দীর্ঘ সময় ধরে আমরা মাল্টি-রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট ক্রয় করিনি। যদি কক্সবাজার বা চট্টগ্রাম এলাকায় আমাদের পর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা থাকত, তবে হয়তো এই রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টিই হতো না।’
সেনাপ্রধান বলেন, “আজ আপনি যদি এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন, তবে ভবিষ্যতে হয়তো ৫০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে। কথায় আছে, ‘সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়।’ আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিই যুদ্ধ করার জন্য নয়, বরং যুদ্ধ এড়ানোর জন্য।” শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকলে পররাষ্ট্রনীতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না বলেও মন্তব্য করেন সেনাপ্রধান।