আপডেট: আগস্ট ১৯, ২০২৬
অনলাইন নিউজঃ পর্যটননগরী কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে জলোচ্ছ্বাস ও জোয়ারের ধাক্কায় অব্যাহত ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। পূর্ণিমার জোয়ার, বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের ঢেউয়ে প্রতিনিয়ত সৈকতের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে বালু সরে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। জিরো পয়েন্ট-সংলগ্ন ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্সটির নিচের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মাটি ধসে গিয়ে এটি এখন প্রচণ্ড ঝুঁকিতে পড়েছে।
পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে বক্সটির যাবতীয় মালপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের ইনচার্জ নাজমুল আহসান বলেন,‘গত এক বছর ধরে আমাদের বক্সের চারপাশের অংশ সমুদ্রে চলে যাচ্ছে। সমুদ্র উত্তাল হলেই আমরা আতঙ্কে থাকি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটিকে জানানো সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় ঢেউয়ের তোড়ে আতঙ্কিত হয়ে মালপত্র সরিয়ে নিয়েছি। সামনে বসে হ্যান্ডমাইক দিয়ে সতর্ক করে সেবা চালিয়ে যাচ্ছি, তবে আর দু-একদিন এভাবে বালু ক্ষয় হলে বক্সটি সমুদ্রে চলে যাবে।’
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা জানান, জিরো পয়েন্ট ছাড়াও রাধাকৃষ্ণ মন্দির, মসজিদসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি স্থাপনা এখন ভাঙনের মুখে। ঢাকা থেকে আসা পর্যটক তাহমিদ হোসেন সৈকতের এমন করুণ দশা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. আল মামুন আকন বলেন, আগে যেখানে পর্যটকেরা স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতেন, সেখানে এখন বড় বড় গর্ত। জোয়ারের পানি খুব কাছাকাছি চলে আসায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও হুমকির মুখে।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান, গত এক দশকে কুয়াকাটায় শত শত কোটি টাকার বেসরকারি বিনিয়োগ হয়েছে। হোটেল, রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট, ট্রাভেল এজেন্সিসহ বিভিন্ন পর্যটনসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। সৈকতের ভাঙন ও নিরাপত্তাহীনতার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো পর্যটনশিল্প বড় ধরনের ধসের মুখে পড়বে। কুয়াকাটার টেকসই সুরক্ষায় দ্রুত বড় পরিসরের উপকূল সুরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন জরুরি।
কুয়াকাটা শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির তীর্থযাত্রী সেবাশ্রমের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী নীহার রঞ্জন মণ্ডল জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রতি বছর বর্ষায় সাময়িকভাবে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করে, যা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। কুয়াকাটা রক্ষায় দ্রুত টেকসই উপকূলীয় সুরক্ষার উদ্যোগ প্রয়োজন।
ভাঙন রোধ ও পুলিশ বক্স রক্ষার বিষয়ে কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম জানান, কুয়াকাটায় কাজ করতে গিয়ে স্থানীয়দের নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। আপাতত জরুরি ভিত্তিতে সাপ্লাই বস্তা ফেলে ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্সটি রক্ষার চেষ্টা চলছে এবং দুই-একদিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব আরিফুজ্জামান বলেন, ‘বিদ্যমান পুলিশ বক্সটি বিলীন হয়ে গেলে পাশে আরেকটি নতুন বক্স তৈরি করে দেওয়ার বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি স্পন্সর কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত হয়েছে।’