আপডেট: অক্টোবর ৭, ২০২৬
অনলাইন নিউজঃ রাতে বিছানায় শুয়ে দীর্ঘক্ষণ এপাশ-ওপাশ করা, আর সকালে অ্যালার্ম বাজলেও যেন চোখ খুলতেই চায় না- এমন কষ্টে কেউ ভোগেননি, খুঁজে পাওয়া দায়। দিনের বেলায় কাজে বসেও ক্লান্তি যেন পিছু ছাড়ে না। কেবল অনিয়মই নয়, এর মূল কারণ হতে পারে আপনার শরীরের নিজস্ব ‘দেহঘড়ি’র ছন্দে গড়মিল।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘সার্কাডিয়ান রিদম’। আমাদের মস্তিষ্কে লুকিয়ে থাকা এই ২৪ ঘণ্টার ছন্দ শরীরকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানিয়ে দেয়, কখন সতেজ থাকতে হবে, আর কখন ঘুমের প্রস্তুতি নিতে হবে। শুধু ঘুমই নয়; পরিপাকতন্ত্র, হরমোন নিঃসরণ থেকে শুরু করে পুরো শরীরের নিয়ন্ত্রণ সামলায় এই অদৃশ্য ঘড়ি।
যেভাবে চলে
আমাদের চোখ আলো আর অন্ধকারের হিসাব রেখে মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায়। দিনের আলো শরীরকে চাঙা রাখে। অন্যদিকে অন্ধকার নামলেই শরীরে ‘মেলাটোনিন’ নামের হরমোন বাড়তে থাকে, যা আমাদের ঘুম পাড়ায়। আবার ভোরের দিকে ‘কর্টিসল’ হরমোন নিঃসৃত হয়ে শরীরকে নতুন দিনের কাজের জন্য তৈরি করে। তবে বয়স, মানসিক চাপ, রাতের খাবার বা প্রতিদিনের অভ্যাসের কারণে এই ছন্দে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
- আমাদের মস্তিষ্কে লুকিয়ে থাকা এই ২৪ ঘণ্টার ছন্দ শরীরকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানিয়ে দেয়, কখন সতেজ থাকতে হবে, আর কখন ঘুমের প্রস্তুতি নিতে হবে। শুধু ঘুমই নয়; পরিপাকতন্ত্র, হরমোন নিঃসরণ থেকে শুরু করে পুরো শরীরের নিয়ন্ত্রণ সামলায় এই অদৃশ্য ঘড়ি।
যেসব কারণে ভেঙে পড়ে এই ছন্দ
আমাদের শহুরে জীবন এখন অনেকটাই ছন্দহীন। অনেকের রাত শুরু হয় ১২টার পর থেকে, ঘুমোতে যেতে যেতে রাত ১টা। এছাড়া নাইট শিফটে কাজ বা ঘন ঘন কাজের সময় বদলানো, প্রতিদিন ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার নির্দিষ্ট সময় না থাকা, ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় মোবাইল, টিভি বা ল্যাপটপের আলোয় চোখ রাখা, দেরিতে ভারী খাবার খাওয়া বা বিমান ভ্রমণের কারণে শরীরের এই স্বাভাবিক ছন্দ বিঘ্নিত হয়।
দেহঘড়ি চাঙা রাখতে যা করতে পারেন
রুটিন মেনে চলুন: ছুটির দিন হলেও প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং সকালে ঘুম থেকে উঠার চেষ্টা করুন।
দিনের আলো গায়ে লাগান: ভোরের বা দিনের কিছুটা সময় রোদে বা খোলামেলা পরিবেশে সময় কাটান। এতে করে শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকবে।
স্ক্রিন অফ রাখুন: ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল-ল্যাপটপ দূরে সরিয়ে রাখুন। বদলে হালকা বই পড়ার অভ্যাস করতে পারেন।
খাবার: সন্ধ্যার পর চা, কফি বা ক্যাফেইনজাতীয় পানীয় এড়িয়ে চলুন। পারলে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন।
হালকা শরীরচর্চা: প্রতিদিন কিছু সময় হাঁটাহাঁটি বা হালকা ব্যায়াম ঘুমের মান বাড়াতে সাহায্য করে।
দিনের বেলা ঘুম নয়: বিকেলে বা সন্ধ্যার দিকে কখনোই ঘুমোতে যাবেন না। এটি খুবই খারাপ অভ্যাস। দিনের বেলা ঘুমোলে রাতে ঘুম আমতে দেরি হবে এবং আপনার রুটিন নষ্ট হয়ে যাবে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
নিয়মিত চেষ্টা করেও যদি দীর্ঘদিন ঘুমের সমস্যা না মেটে, মাঝরাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায় কিংবা সারাদিন তীব্র ক্লান্তি ঘিরে রাখে- তবে এটি অবহেলা করবেন না। স্লিপ অ্যানিয়া বা ডিলেইড স্লিপ ফেজ ডিসঅর্ডারের মতো সমস্যা থাকলে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সুস্থ দেহ আর প্রফুল্ল মনের মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে এই স্বাভাবিক ঘুমেই। তাই জীবনযাত্রায় সামান্য কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনলে আপনার শরীরে ফিরবে স্বস্তি, রাত কাটবে শান্তিময় ঘুমে। সূত্রঃ দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস