অতএব রিজিকের পার্থক্য কোনো অবিচার নয়; বরং এটি আল্লাহর মহান প্রজ্ঞা ও পরীড়্গারই অংশ।
প্রথম হেকমত : যদি মানুষের রিজিক ও জীবনযাত্রার অবস্থা সম্পূর্ণ সমান হতো অর্থাৎ সবাই ধনী, সচ্ছল ও সমানভাবে স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ জীবন যাপন করত, তাহলে পৃথিবীর জীবনব্যবস্থা ঠিকভাবে চলত না। সমাজের স্বাভাবিক গতি থেমে যেত। কারণ মানুষের প্রয়োজন ও পেশার বৈচিত্রই সমাজকে সচল রাখে। যদি সবাই ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হয়ে যেত, তবে আমাদের আবর্জনা পরিষ্কার করার কেউ থাকত না, পোশাক সেলাই করার কেউ থাকত না, শিশুদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য শিক্ষক পাওয়া যেত না, কিংবা সম্পদ ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্যও কাউকে পাওয়া যেত না।
দ্বিতীয় হেকমত : মানুষের মধ্যে রিজিকের পার্থক্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো পরীক্ষা। আল্লাহ তাআলা এর মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের পরীক্ষা করেন-কে কৃতজ্ঞ আর কে অকৃতজ্ঞ। তিনি ধনীদের সম্পদ দান করেন তাদের পরীক্ষা করার জন্য-তারা কি এই নিয়ামতের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবে? তারা কি তাদের সম্পদ থেকে দান-সদকা করবে, অভাবগ্রস্তদের সাহায্য করবে, নাকি তারা এই নিয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়ে আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হবে, অপচয় করবে এবং দরিদ্রদের অধিকার ভুলে যাবে।
তৃতীয় হেকমত : অনেক মানুষ এমন আছে, যদি আল্লাহ তাদের জন্য বিপুল রিজিক উন্মুক্ত করে দেন, তবে তারা পৃথিবীতে সীমা লঙ্ঘন করতে শুরু করবে, অহংকারী হয়ে উঠবে। তাই কখনো কখনো তাদের জন্য রিজিক সীমিত করাই তাদের জন্য কল্যাণকর হয়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, যদি আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য রিজিক অবারিত করে দিতেন, তবে তারা অবশ্যই পৃথিবীতে সীমা লঙ্ঘন করত। কিন্তু তিনি যাকে যতটুকু ইচ্ছা নির্ধারিত পরিমাণে তা অবতীর্ণ করেন। নিশ্চয়ই তিনি তাঁর বান্দাদের সম্পর্কে সর্বজ্ঞ ও সর্বদ্রষ্টা।’ (সুরা : শুরা, আয়াত : ২৭)
আল্লাহ তাআলাই তাঁর বান্দাদের অন্তরের অবস্থা সবচেয়ে ভালো জানেন। কিন্তু অনেক মানুষ এই সত্য উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়। তারা মনে করে, ধন-সম্পদ পাওয়া মানেই আল্লাহর অনুগ্রহ ও মর্যাদার নিদর্শন, আর দারিদ্র মানেই আল্লাহর অপমান বা অসন্তুষ্টির চিহ্ন। আল্লাহ তাআলা কোরআনে এই ভুল ধারণা স্পষ্টভাবে খণ্ডন করেছেন।
তিনি বলেন, মানুষের অবস্থা এই যে যখন তার প্রতিপালক তাকে পরীক্ষা করার জন্য সম্মান ও নিয়ামত দান করেন, তখন সে বলেন, আমার প্রভু আমাকে সম্মানিত করেছেন।’ আর যখন তিনি তাকে পরীক্ষা করার জন্য তার রিজিক সীমিত করে দেন, তখন সে বলেন, আমার প্রভু আমাকে অপমানিত করেছেন।’ (সুরা : ফজর, আয়াত : ১৫-১৬)