নিজস্ব প্রতিনিধি, বরিশাল: এমপিওভুক্ত কলেজসমূহে কর্মরত ল্যাব সহকারীদের বেতন গ্রেড ১৬তম-এ উন্নীত করার দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একই মন্ত্রণালয়ের অধীন সমপদে ভিন্ন বেতন কাঠামো নীতিগত অসামঞ্জস্য ও প্রশাসনিক বৈষম্যের সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে ২০১৮ সালে ল্যাব সহকারী পদ সৃষ্টিকালে, ২০১৮ সালে জারিকৃত “বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮” অনুযায়ী কলেজের ল্যাব সহকারীদের বেতন গ্রেড ১৮তম নির্ধারণ করা হয়। একই সময়ে “বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮”-এও সমপদে একই শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ১৮তম গ্রেড নির্ধারিত ছিল।
তবে ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জারিকৃত “বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬”-এ মাদ্রাসার ল্যাব সহকারীদের বেতন গ্রেড উন্নীত করে ১৬তম নির্ধারণ করা হয়েছে এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা বিজ্ঞান বিভাগ হতে এইচএসসি/আলিম বা সমমান করা হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে একই দায়িত্ব ও কর্মপরিধির পদের ক্ষেত্রে কলেজ ও মাদ্রাসা শাখায় ভিন্ন বেতন গ্রেড বহাল রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ল্যাব সহকারীরা জানান, বিজ্ঞান ও আইসিটি বিষয়ের ব্যবহারিক পাঠদান কার্যক্রমে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিক্ষা নিশ্চিত করতে ল্যাব ব্যবস্থাপনা, যন্ত্রপাতি সংরক্ষণ, পরীক্ষণ পরিচালনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ নানা দায়িত্ব পালন করতে হয়। অথচ একই দায়িত্ব পালনের পরও বেতন কাঠামোয় পার্থক্য থাকায় তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা হাইস্কুল ও কলেজের ল্যাব সহকারী মো: ইকবাল হোসেন বলেন, “একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে একই ধরনের দায়িত্ব পালন করেও আমরা কম গ্রেডে রয়েছি। এটি ন্যায়সংগত নয়। বৈষম্য দূর করতে কলেজের ল্যাব সহকারীদেরও ১৬তম গ্রেডে উন্নীত করা উচিত।”
দাবির প্রেক্ষিতে প্রস্তাব করা হয়েছে—
১। এমপিওভুক্ত কলেজের ল্যাব সহকারীদের বেতন গ্রেড ১৬তম-এ উন্নীত করা।
২। পূর্বে নিয়োগপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল রেখে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রেড উন্নয়ন প্রদান।
৩। ভবিষ্যৎ নিয়োগে সংশোধিত শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে একদিকে বৈষম্য দূর হবে, অন্যদিকে প্রশাসনিক সামঞ্জস্যতা ও ন্যায়সংগত কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে।
এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।