অনলাইন নিউজঃ ২০২৫-২৬ অর্থবছর শুরু হয়েছিল ৩ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেকর্ড রফতানি আয়ের মাধ্যমে। তবে পরবর্তী মাসগুলোতে ধারাবাহিকভাবে রফতানি কমেছে। প্রতিটি মাসেই প্রবৃদ্ধি ছিল নেতিবাচক। যদিও জানুয়ারিতে ৩ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয় হয়েছে, তবুও সেটি পুরোপুরি ইতিবাচক চিত্র নয়। ডিসেম্বরে যেখানে রফতানি প্রবৃদ্ধি ১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ কমেছিল, জানুয়ারিতে সেই পতন কমে ১ দশমিক ৩৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির হার ধীরে ধীরে কমছে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই ধারা বজায় থাকলে আমরা আগের মৌসুমের ঘাটতি অনেকটাই পুষিয়ে নিতে পারব। ক্রেতারাও আশ্বাস দিচ্ছেন যে নির্বাচন শেষ হলে তারা নতুন অর্ডার দেবেন। মার্চ, এপ্রিল ও মে পর্যন্ত এই মৌসুমের অর্ডার কাভার করা সম্ভব হবে।

 
গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা জানান, এই খাত মূলত চার মৌসুমের ওপর নির্ভরশীল। স্প্রিং ও সামার মৌসুমে তুলনামূলক বেশি রফতানি হয়। বর্তমানে স্প্রিং মৌসুমের পণ্য জানুয়ারি পার হয়ে পুরো ফেব্রুয়ারি জুড়ে শিপমেন্ট হচ্ছে। পাশাপাশি সামার মৌসুমের কাঁচামালও কারখানায় আসতে শুরু করেছে। তবে এই সময়েই বন্দর ধর্মঘটসহ নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে।
 
বিজিএমইএর ভাইস প্রেসিডেন্ট এনামুল আজিজ চৌধুরী বলেন, সামার মৌসুমের অর্ডার সাধারণত ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে শুরু হয়। শীত মৌসুমে ভারী জ্যাকেট ও উইন্টারওয়্যার তৈরি হয়। কিন্তু গ্রীষ্মে আমরা মূলত হালকা পোশাক-টি-শার্ট ও লাইট জ্যাকেট তৈরি করি।
 
অর্ডার বাড়লেও বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বন্দর অচলাবস্থার কারণে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা কমছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। টানা কর্মবিরতির কারণে চট্টগ্রাম বন্দর কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে তৈরি পোশাক রফতানিতে।
 
বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা কমে গেছে। অনেক সময় নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করা যাচ্ছে না। পাঁচ দিন বন্দর বন্ধ থাকা মানে দেশের অর্থনীতি কার্যত অচল হয়ে যাওয়া। এমন পরিস্থিতিতে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা রাখা কঠিন।
 
 
এই অবস্থায় বন্দর সমস্যার দ্রুত সমাধান ও আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন জরুরি বলে মনে করে বিজিএমইএ। এরই মধ্যে সংগঠনটি এ বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন দফতরে চিঠি দিয়েছে। বিজিএমইএর পরিচালক সাইফুল্লাহ মনসুর বলেন, ধীরে ধীরে অর্ডার বাড়ছে। তবে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে ক্রেতাদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। এজন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন জরুরি। পাশাপাশি বন্দর সমস্যার সমাধান করতে হবে। ক্রেতারা আস্থা হারালে তারা আর বাংলাদেশে আসবে না।
 
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ২৩ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছিল। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি হয়েছে ২২ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি পিছিয়ে রয়েছে ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ।