৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার

শিরোনাম
রাজধানীতের নারীদের জন্য বাস সার্ভিস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর আধুনিক সাংবাদিকতার কারিগর কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল এর ২য় মৃত্যুবার্ষিকী আজ আসুন শপথ নেই, আমাদের কাজগুলো হবে মানুষের কল্যাণে: প্রধানমন্ত্রী ‘এমপি-মন্ত্রীরা যেদিন ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নেবেন, সেদিনই স্বাস্থ্যখাতের দুর্দশা কাটবে’ প্রাথমিকে ফিরছে বৃত্তি, শিক্ষামন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন অধ্যক্ষ তাহমিনা আকতার একুশে পদক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত গত বছরের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা এপ্রিলে, সুযোগ পাচ্ছে কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীরাও বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান ‍খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের

বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬

বিশেষ অনুসন্ধান প্রতিবেদন
WAFID মেডিকেল স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম :

একটি জরুরি অনুসন্ধানে উঠে এসেছে— WAFID মেডিকেল স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের কাছ থেকে পদ্ধতিগতভাবে বিপুল অর্থ আদায় করছে। একই সঙ্গে বহু মেডিকেল সেন্টারকে চাঁদাবাজি ও ইচ্ছামতো বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে।

WAFID-এর অর্থ উপার্জনের কৌশল

কীভাবে একটি ভিসা স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম আর্থিক ফাঁদে পরিণত হলো

WAFID কোম্পানির মূল দায়িত্ব ছিল উপসাগরীয় দেশগুলোতে কাজের ভিসার জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ দেওয়া। কিন্তু বাস্তবে এটি একটি অর্থ আদায়ের যন্ত্রে পরিণত হয়েছে।

গত তিন বছরে WAFID বাংলাদেশে ২৫০টির বেশি মেডিকেল সেন্টারকে অনুমোদন দিয়েছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এই অনুমোদনের মূল উদ্দেশ্য ছিল সেবা দেওয়া নয়—বরং আবেদন, পরিদর্শন ও অনুমোদন ফি আদায় করা।

অনেক ছোট বিনিয়োগকারী মেডিকেল সেন্টার খুলে বড় অঙ্কের টাকা লগ্নি করেন, পর্যাপ্ত রোগী পাওয়ার আশায়। কিন্তু বাস্তবে তারা পেয়েছেন—
•    ফাঁকা ওয়েটিং রুম
•    ব্যাংক ঋণ
•    মিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতি

শ্রমিকদের কাছ থেকে সরাসরি টাকা আদায়

প্রতিটি অভিবাসী শ্রমিকের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশনের জন্য ১০ ডলার নেওয়া হয়।
বাংলাদেশি শরণার্থী ও অভিবাসন গবেষণা ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী—
•    ২০২২ সালে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক GCC দেশগুলোতে গেছেন
•    প্রতি শ্রমিক ১০ ডলার হিসেবে
•    এক বছরে প্রায় ১২ কোটি ডলার আদায় করা হয়েছে
এই টাকা কোথায় যায়—তা নিয়ে কোনো স্বচ্ছতা নেই। অনেক ক্ষেত্রে এটি “অনিরাপদ অর্থ লেনদেন” হিসেবে বিবেচিত। দরিদ্র শ্রমিকদের জন্য এটি আরও একটি বাড়তি বোঝা, কারণ তারা আগেই দালাল ফি, ভিসা, বিমান টিকিট ও পারিবারিক খরচে জর্জরিত।
পরিসংখ্যান এক নজরে
•    ২৫০+ মেডিকেল সেন্টার
গত তিন বছরে WAFID কর্তৃক অনুমোদিত
•    ১ কোটি ২০ লাখ শ্রমিক
২০২২ সালে GCC দেশে গমনকারী
•    ১২ কোটি ডলার
এক বছরে শুধু রেজিস্ট্রেশন ফি থেকেই আয়

দুর্নীতির অভিযোগ: চাঁদাবাজি ও কারসাজি
আরও গুরুতর অভিযোগ হলো—
WAFID-এর ভেতরে চাঁদাবাজি ও প্রভাব খাটানোর সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।
অনেক মেডিকেল সেন্টারকে বলা হয়েছে—
•    WAFID-এর প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে
•    “পার্টনারশিপ চুক্তি” করতে
•    যার মূল্য ৩ লাখ ডলার পর্যন্ত
যারা এই প্রস্তাবে রাজি হয়নি—
•    তাদের মেডিকেল সেন্টার হঠাৎ সাসপেন্ড করা হয়েছে
•    কোনো আইনি নোটিশ বা ব্যাখ্যা ছাড়াই
প্রায় ১৫টি মেডিকেল সেন্টার সম্প্রতি এভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন তারা বাংলাদেশে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ফিলিপাইনের উদাহরণ
ফিলিপাইনের সংসদ ইতিমধ্যে—
•    WAFID-এর সঙ্গে সব কার্যক্রম বন্ধ করার আইন পাস করেছে
•    কারণ তারা এটিকে অর্থনৈতিক ক্ষতি ও অনিয়মপূর্ণ মনে করেছে
বাংলাদেশেরও একই পথে হাঁটা উচিত বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
জরুরি আহ্বান: বাংলাদেশে WAFID কার্যক্রম বন্ধ করা হোক
প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়েছে—
WAFID—
•    শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করছে না
•    মেডিকেল সেবার মান উন্নত করছে না
•    বরং এটি একটি দুর্নীতিপূর্ণ অর্থ আদায়ের কাঠামো
প্রস্তাবিত পদক্ষেপ
১. তাৎক্ষণিক স্থগিতাদেশ
WAFID-এর লাইসেন্স বাতিল করে তদন্ত শুরু
২. আর্থিক তদন্ত
সব অর্থ লেনদেন ও পার্টনারশিপ চুক্তি যাচাই
৩. ভুক্তভোগীদের সহায়তা
মেডিকেল সেন্টার মালিক ও শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ
৪. ব্যবস্থার সংস্কার
স্বচ্ছ ও সরকারি নিয়ন্ত্রিত বিকল্প ব্যবস্থা গঠন

186 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন