৩রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শুক্রবার

মাদারীপুরে প্রকল্পের টাকা হাতিয়ে নিলেন প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা !

আপডেট: জুন ২, ২০২১

মাদারীপুর প্রতিনিধি ॥ বাংলাদেশ প্রানী সম্পদ অধিদপ্তরের আওতায় ন্যাশনাল এগ্রিকালচার টেকনোলজি প্রগ্রাম-২(এনএটিপি-২ প্রকল্প) সুফল ভোগিদের মাঝে সম্প্রতি উপকরন বিতরণ করা হয়। বিতরণ কৃত উপকরন গুলো এ প্রকল্পের কাজে ব্যাবহারের অযোগ্য সহ বেশি ভাগ উপকরন গুলি ব্যহত বলে ধারনা করা হচ্ছে।

 

এ উপকরন ক্রয় করার সময় মানা হয়নি কোন নিয়ম কানুন। এমন কি এ প্রকল্পের কর্মিদের একাধিক বার ট্রেনিং করানোর কথা থাকলেও ট্রেনিং না করিয়ে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ।

 

জানা যায়, কালকিনিতে ন্যাশনাল এগ্রিকালচার টেকনোলজি প্রগ্রাম-২(এনএটিপি-২ প্রকল্প) বাস্তবায়নে উপকারভোগি ৬টি সমিতির জন্য দুধ বাজারজাত করনের জন্য ৬টি মিনি ট্রাক কেনার কথা থাকলেও সেখানে ৬টি ইজিবাইক ক্রয় করা হয়। দুধ রাখার জন্য বড় বড় ক্যান ও গরুর ঘাষ কাটার জন্য নতুন ম্যাশিন ক্রয় করার কথা থাকলেও সেখানে ছোট ছোট হাতল ওয়ালা ক্যান ক্রয় করা হয়।

 

উপকার ভোগি ও সংশ্লিষ্ট ক্রয় কর্মকর্তাদের নিয়ে ক্রয় করার কথা থাকলেও তাদের নিয়ে ক্রয় না করে এবং কাগজে কলমে সবাইকে নিয়ে ক্রয় করেছেন বলে দেখিয়ে দেয়া হয় বলে জানাযায়। এবং ক্রয় কৃত ইজিবাইক ৬জনকে দেবেন বলে গোপনে তাদের কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহন করেছেন । এবং যাদের কাছ থেকে সুবিধা নিতে পারবেন তাদের এ প্রকল্পে নাম দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।

 

সম্প্রতি মাদারীপুরের কালকিনিতে এনএটিপি-২ প্রকল্পর সুফল ভোগিদের মাঝে উপকরন বিতরণ অনুষ্ঠানে এমন অভিযোগ করেন প্রকল্পে কর্মরত কর্মচারীরা। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মৎস ও প্রানীসম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ। এ প্রকল্পের জন্য ক্রয় কৃত উপকরন গুলো প্রকল্পে তেমন কোন কাজে ব্যাবহৃত হবে কিনা এ নিয়ে খোদ মৎস ও প্রানী সম্পদ সচিব প্রশ্ন তোলেন।

 

তিনি বলেন ইজিবাইকেতো মানুষ চড়ে, এতে করে মনকে মন দুধ কিভাবে বাজারে নিয়ে যাওয়া হবে। এবং যে ক্যান ক্রয় করা হয়েছে তাতে কিভাবে এত দুধ রাখা যাবে এবং বাজারে নেওয়া যাবে। তিনি বলেন কাদের পরার্মশে এ গুলি ক্রয় করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন এগুলি সরকারের এবং আপনাদের টাকা এ টাকা তো জলে যেতে দিবো না। তিনি আরো বলেন আমার মনে হচ্ছে এ অটো আপনারা ক্রয় করেছেন ভারা দেওয়ার জন্য প্রকল্পের উদ্দেশ্যে নয়।

 

তিনি ঘাস কাটা ম্যাশিন সম্পর্কে এক কর্মকর্তাকে বলেন এগুলোর কাজে যান এবং পরিক্ষা করে বলুন এগুলো নতুন না পুরাতন। উপকার ভোগিদের প্রকল্প সম্পর্কে প্রশ্ন করলে উপকারভোগিরা কোন উত্তর দিতে পারেন নি এবং ক্রয় কৃত কোন ক্যান ব্যাবহার করে দেখাতে পারেন নি উপকার ভোগিরা। মৎস ও প্রানী সম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ, প্রানি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ নীরোধ বরণ জয় ধরকে প্রশ্ন করেন, এমন উপকরন কার কার কথায় কিনেছেন এবং কি উদ্দেশ্যে কিনেছেন প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ নীরোধ বরণ জয় ধর কোন উত্তর দেননি।

 

পরক্ষনে মৎস ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ কালকিনি পৌর মেয়র এসএম হানফিকে এ উপকরন গুলো জেন কোন রকম ব্যাক্তির্স্বাথে ব্যাবহৃত না হয়।তিনি আরও বলেন, আপনাদের যাহাকিছুই দেয়া হচ্ছে সবটাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিচ্ছেন।

 

নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, কালকিনি প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ নীরোধ বরণ জয়ধর ৭বছর ধরে এখানে আছেন তাকে ২০১৭ সালে তাকে স্টান্ড রিলিজ করা হলেও তিনি মধুখালি উপজেলায় না গিয়ে এখানেই থেকে গেছেন এখান থেকে তিনি কোথাও যেতে চান না। প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ নীরোধ বরণ জয়ধরকে কেনা কাটা নিয়ে ও প্রকল্পে কত টাকার উপকরন কেনা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর দেন নি।

 

এব্যাপারে কালকিনি উপজেলা র্নিবাহী কর্মকর্তা মোঃ মেহেদী হাসান বলেন, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে মন্ত্রনালয়ে যানাবো।

162 বার নিউজটি শেয়ার হয়েছে
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন